বিজয় দিবস ২০০৭-�র বিশেষ রচনা
সৌজন�যেঃ

জামায়াতের নির�বাহী কমিটির ১৫ সদস�যের ১১ জনই ছিলেন পাকিস�তানি বাহিনীর দোসর
নিজস�ব প�রতিবেদক

১৯৭১ সালের ২৫ সেপ�টেম�বর ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে পাকিস�তান সেনাবাহিনীর সমর�থনে গঠিত সরকারকে দেওয়া �ক সংবর�ধনায় পূর�ব পাকিস�তান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির গোলাম আযম বলেছিলেন, ‘দ�ষ�ককৃতকারীদের (ম�ক�তিযোদ�ধা) ধ�বংসাত�মক কার�যকলাপে যেসব পাকিস�তানি প�রাণ হারিয়েছে, তাদের মধ�যে সবচেয়ে বেশি লোকই জামায়াতে ইসলামীর সাথে জড়িত।...পাকিস�তান যদি না থাকে তাহলে জামায়াতকর�মীরা দ�নিয়াতে বে�চে থাকার কোনো সার�থকতা মনে করে না।’ ২৬ সেপ�টেম�বর জামায়াতে ইসলামীর ম�খপত�র দৈনিক সংগ�রাম পত�রিকায় � সংবাদ ছাপা হয়।
অন�যদিকে জামায়াতের বর�তমান আমির ও ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে জামায়াতের তখনকার ছাত�র সংগঠন ইসলামী ছাত�র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম�বর দৈনিক সংগ�রাম-� ‘বদর দিবস, পাকিস�তান ও আলবদর’ শিরোনামে �কটি উপসম�পাদকীয়তে লেখেন, ‘আমাদের পরম সৌভাগ�যই বলতে হবে। পাকসেনার সহযোগিতায় � দেশের ইসলামপ�রিয় তর�ণ সমাজ বদর য�দ�ধের স�নৃতিকে সামনে রেখে আলবদর বাহিনী গঠন করেছে।’
জামায়াতের নেতাদের সঙ�গে কথা বলে জানা গেছে, ম�ক�তিয�দ�ধের সময় সাংগঠনিক সিদ�ধান�তেই জামায়াত বাংলাদেশের স�বাধীনতার বিরোধিতা করে। দলের সে সময়কার ও বর�তমানের কেন�দ�রীয় নেতাদের প�রায় সবাই ম�ক�তিয�দ�ধের সময় পাকিস�তানি হানাদার বাহিনীর পক�ষে কাজ করেছেন।
স�বাধীনতার ৩৬ বছর পরও জামায়াত ম�ক�তিয�দ�ধের সময়কার ভ�মিকার জন�য আজও দ�ঃখ প�রকাশ করেনি, বরং সব সময়ই তাদের সেই ভ�মিকার পক�ষে প�রকাশ�যে য�ক�তি দা�ড় করানোর চেষ�টা করেছে। নাম প�রকাশে অনিচ�ছ�ক দলের �কজন সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল প�রথম আলোকে বলেছেন, ‘যতক�ষণ �কটি দেশ আছে, �কজন দেশপ�রেমিকের কাজ হচ�ছে সে দেশের পক�ষে কথা বলা।’ পরে �ই বক�তব�য ব�যাখ�যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দক�ষিণ বা পশ�চিম অংশ আলাদা হয়ে যেতে চাইলে আপনার দায়িত�ব হচ�ছে বাংলাদেশের অখন�ডতার পক�ষে কথা বলা। কিন�ত� যদি দেশটি ভাগ হয়ে যায়, তাহলে আপনি যে অংশে থাকবেন, সে অংশের পক�ষে কথা বলবেন। �কজন স�নাগরিক হিসেবে �টাই আপনার দায়িত�ব।’
গত ২৫ অক�টোবর নির�বাচন কমিশনের সঙ�গে আলোচনার পর জামায়াতের বর�তমান সেক�রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম�মাদ ম�জাহিদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো স�বাধীনতাবিরোধী নেই, ছিলও না। �টা বানোয়াট ও কল�পনাপ�রস�ত।’
বর�তমান কেন�দ�রীয় কমিটির সদস�যরা: বর�তমানে জামায়াতের কেন�দ�রীয় নির�বাহী কমিটির ১৫ সদস�যের মধ�যে ১১ জনের বির�দ�ধেই স�বাধীনতা বিরোধিতার প�রমাণ আছে। তা�রা হলেন−আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক�রেটারি জেনারেল আলী আহসান ম�জাহিদ, জ�যেষ�ঠ নায়েবে আমির (সহসভাপতি) আব�ল কালাম মোহাম�মদ ইউস�ফ, নায়েবে আমির মকব�ল আহমেদ, জ�যেষ�ঠ সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল ম�হাম�মাদ কামার�জ�জামান, দ�ই সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল আবদ�ল কাদের মোল�লা ও � টি �ম আজহার�ল ইসলাম �বং চার শীর�ষস�থানীয় নেতা ম�হাম�মদ স�বহান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব� নাসের মোহাম�মদ আবদ�জ জাহেদ ও মীর কাসেম আলী (নয়া দিগন�ত-�র পরিচালনা বোর�ডের চেয়ারম�যান)।
কেন�দ�রীয় কমিটির আরও দ�ই সদস�য নাজির আহমদ ও রফিউদ�দিন আহমদ নিজ �লাকায় স�বাধীনতাবিরোধী বলে পরিচিত। কমিটির অন�য দ�ই সদস�যের মধ�যে ব�যারিস�টার আবদ�র রাজ�জাক ম�ক�তিয�দ�ধের সময় য�ক�তরাজ�যে ছিলেন, আর রফিক�ল ইসলাম খান ছিলেন সে সময় অপ�রাপ�তবয়স�ক।
ম�ক�তিয�দ�ধের সময় পাকিস�তান সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন�য গঠিত পূর�ব পাকিস�তান আলবদর বাহিনীর সর�বাধিনায়ক হিসেবে মতিউর রহমান নিজামী সারা দেশ সফর করে দলের নেতা-কর�মীদের পাকিস�তানের পক�ষে য�দ�ধ করতে উদ�ব�দ�ধ করেছেন। পাকিস�তান দিবস উপলক�ষে কার�জন হলে �ক আলোচনায় নিজামী বলেছিলেন, ‘...ইসলামী ছাত�র সংঘের কর�মীরা দেশের প�রতি ইঞ�চি ভ�মি রক�ষা করতে দৃ�প�রতিজ�ঞ’ (দৈনিক সংগ�রাম, ৮ সেপ�টেম�বর)। ’৭১ সালের ১১ আগস�ট ম�ক�তিযোদ�ধাদের আক�রমণে নিহত পাক সেনাবাহিনীর দোসর মাওলানা মাদানীর স�নরণে �ক আলোচনা সভায় ২২ আগস�ট নিজামী বলেছিলেন, ‘পাকিস�তানকে যারা বিচ�ছিন�ন করতে চায় তারা � দেশ থেকে ইসলামকেই উৎখাত করতে চায়’ (২৩ আগস�ট দৈনিক সংগ�রাম)।
১২ অক�টোবর দৈনিক সংগ�রাম-�র তৃতীয় পাতায় ‘য�ববাহিনী গঠনের সিদ�ধান�ত’ শীর�ষক �কটি সংবাদ প�রকাশিত হয়। �তে ‘গ�ন�ডামি’ মোকাবিলায় �ই বাহিনী গঠনের সাংগঠনিক উদ�দেশ�যের কথা জানানো হয়। �র কিছ�দিন পরই গঠিত হয় আলবদর ও আলশামস বাহিনী।
আলী আহসান ম�জাহিদ ছিলেন আলবদর বাহিনীর অন�যতম সংগঠক। �ই বাহিনী ব�দ�ধিজীবী হত�যাসহ ম�ক�তিয�দ�ধের সপক�ষ শক�তির ওপর নানা নৃশংসতা চালায়। ’৭১ সালের ১৭ অক�টোবর রংপ�রে পাকিস�তান ইসলামী ছাত�র সংঘের �ক সভায় ম�জাহিদ আলবদর বাহিনী গড়ে ত�লতে দলীয় নেতা-কর�মীদের নির�দেশ দেন। ২৫ অক�টোবর ইসলামী ছাত�র সংঘের �ক সম�মেলনে ম�জাহিদ ‘পাকিস�তানের ছাত�র-জনতাকে দ�ষ�ককৃতকারী (ম�ক�তিযোদ�ধা) খতম করার দৃ� অঙ�গীকার নিয়ে �গিয়ে আসার আহ�বান জানান’ (দৈনিক সংগ�রাম, ২৬-১০-৭১)।
জামায়াতের জ�যেষ�ঠ সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল মোহাম�মাদ কামার�জ�জামানের তত�ত�বাবধানে ম�ক�তিয�দ�ধকালে বৃহত�তর ময়মনসিংহে আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ আগস�ট দৈনিক সংগ�রাম-�র �কটি প�রতিবেদনে কামার�জ�জামানকে ময়মনসিংহ জেলা আলবদর বাহিনীর প�রধান সংগঠক হিসেবে উল�লেখ করা হয়।
আমাদের শেরপ�র প�রতিনিধি দেবাশীষ সাহা রায় জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের ২৪ আগস�ট শেরপ�র সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের খরখরিয়া গ�রামের গোলাম মোস�তফাকে ম�ক�তিযোদ�ধাদের তথ�য দিয়ে সহায়তা করার ‘অপরাধে’ স�থানীয় মৃগী নদীর ওপর নির�মিত শেরী সেত�র ওপর নিয়ে হত�যা করে আলবদরেরা।
গোলাম মোস�তফার ভাই মোশাররফ হোসেন ওরফে মানিক প�রথম আলোকে জানান, � ঘটনার আগের দিন মোস�তফার সঙ�গে আব�ল কাসেম নামের �ক ব�যক�তিকেও ধরে নিয়ে যায় আলবদরেরা। পরদিন মোস�তফার সঙ�গে তা�কেও গ�লি করা হলে গ�লি খানিকটা লক�ষ�যভ�রষ�ট হয়ে আব�ল কাসেমের হাতে লাগে। পরে তিনি পানিতে পড়ে যান �বং সা�তরে ক�লে ওঠেন। আব�ল কাসেম পরে মানিককে জানিয়েছেন, কামার�জ�জামানের নির�দেশেই সেদিন তা�দের গ�লি করা হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল � টি �ম আজহার�ল ইসলাম আলবদর বাহিনীর রাজশাহী জেলা শাখার প�রধান ছিলেন (ম�ক�তিয�দ�ধের প�রেক�ষাপটে ব�যক�তির অবস�থান, � �স �ম সামছ�ল আরেফিন পৃ-৪৩০)। ১৯৭১ সালের ১৭ অক�টোবর রংপ�রের যে সভায় ম�জাহিদ আলবদর বাহিনী প�রতিষ�ঠার নির�দেশ দেন, সেই সভায় সভাপতিত�ব করেন � টি �ম আজহার। ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে পূর�ব পাকিস�তান স�বরাষ�ট�র মন�ত�রণালয়ের গোপন দলিল ‘ফর�টনাইটলি সিক�রেট রিপোর�ট অন দ�য সিচ�য়েশন ইন ইস�ট পাকিস�তান’-�র অক�টোবরের দ�বিতীয় ভাগের প�রতিবেদনে (১৩ নভেম�বর ১৯৭১ স�বরাষ�ট�রসচিব স�বাক�ষরিত) �ই বিষয়টি উল�লেখ আছে।
আরেক সহকারী সেক�রেটারি জেনারেল আবদ�ল কাদের মোল�লা ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে রাজাকার বাহিনীর সমন�বয়কারী হিসেবে দায়িত�ব পালন করেন (ম�ক�তিয�দ�ধের প�রেক�ষাপটে ব�যক�তির অবস�থান, পৃ-৪৩০)। ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে তিনি জামায়াতের নেতাদের নিয়ে �কাধিকবার টিਆা খানের সঙ�গে দেখা করেন বলে ওই সময় প�রকাশিত বিভিন�ন সংবাদপত�রের প�রতিবেদনে দেখা যায়।
জামায়াতের জ�যেষ�ঠ নায়েবে আমির আব�ল কালাম মোহাম�মদ ইউস�ফ ১৯৭১ সালের মে মাসে খ�লনার খানজাহান আলী সড়কের �কটি আনসার ক�যাম�পে ৯৬ জন জামায়াতকর�মী নিয়ে প�রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। তখন � সংবাদ দৈনিক সংগ�রাম পত�রিকায় ছাপা হয়। ২৮ নভেম�বর করাচিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রাজাকাররা আমাদের বীর সেনাবাহিনীর সাথে কা�ধে কা�ধ মিলিয়ে ভারতীয় হামলার মোকাবিলা করছে।’ তিনি রাজাকারদের হাতে আরও আধ�নিক অস�ত�র দেওয়ার দাবি জানান। ম�ক�তিয�দ�ধের সময় তিনি পূর�ব পাকিস�তান সরকারের অর�থমন�ত�রী ছিলেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির মকব�ল আহমেদ চট�টগ�রাম বিভাগীয় শান�তি কমিটির প�রধান সমন�বয়কের দায়িত�ব পালন করেন (ম�ক�তিয�দ�ধের প�রেক�ষাপটে ব�যক�তির অবস�থান, পৃ-৪৩০)। আমাদের ফেনী প�রতিনিধি আব� তাহের জানান, মকব�ল আহমদ ’৭১ সালের ১০ আগস�ট রেডিও পাকিস�তান চট�টগ�রামের ডিউটি অফিসার ইনচার�জ ফজল�ল হককে লেখা �ক চিঠিতে ফেনীর তাকিয়াবাড়ীর মাওলানা সৈয়দ ওয়ায়েজউদ�দিনকে (পূর�ব পাকিস�তান ছাত�র ইউনিয়নের (মেনন) সহসভাপতি) ম�ক�তিবাহিনীর তথ�যদাতা উল�লেখ করে জামায়াতের বিশেষ ক�যাডেট কমান�ডার শাহজালাল ও নওশেরের সহযোগিতায় তা�কে খ��জে বের করার নির�দেশ দেন। � জন�য তিনি ফেনী শহর রাজাকার কমান�ডার হানিফ ও উপদেষ�টা মাওলানা মোস�তফাকে চট�টগ�রামে পাঠান। পরে ১৭ আগস�ট চট�টগ�রামের রিয়াজউদ�দিন বাজার থেকে ওয়ায়েজউদ�দিনকে �কটি জিপে ত�লে করে নিয়ে যায় রাজাকারেরা। �রপর তা�র আর কোনো খো�জ পাওয়া যায়নি। স�বাধীনতার পর স�থানীয় ম�ক�তিযোদ�ধা সংসদ চিঠিটি বাংলায় অন�বাদ করে বিলি করে।
নির�বাহী কমিটির সদস�য মাওলানা মোহাম�মদ স�বহান ম�ক�তিয�দ�ধের সময় পাবনার শান�তি কমিটির প�রধান ছিলেন। পাবনা থেকে আমাদের নিজস�ব প�রতিবেদক ফার�ক হোসেন চৌধ�রী জানান, ’৭১ সালের জ�ন মাসে মাওলানা স�বহানের নেতৃত�বে পাবনায় ম�ক�তিয�দ�ধের অন�যতম সংগঠক মাওলানা কাসিমউদ�দিনকে হত�যা করে শান�তি কমিটির সদস�যরা। মাওলানা স�বহানের বির�দ�ধে অনেক হত�যা-নির�যাতনের অভিযোগ �নেছেন পাবনার �কাধিক ম�ক�তিযোদ�ধা কমান�ডার। তা�রা জানান, স�বাধীনতার ৩৬ বছর পরও মাওলানা স�বহানকে তা�রা ভয় করেন। � কারণে তা�রা পরিচয় প�রকাশ করবেন না।
নির�বাহী কমিটির আরেক সদস�য ও ইসলামী ব�যাংকের চেয়ারম�যান আব� নাসের মোহাম�মদ আবদ�জ জাহের ’৭১ সালে চট�টগ�রাম বিশ�ববিদ�যালয় ইসলামী ছাত�র সংঘের সভাপতি ও চট�টগ�রাম বদরবাহিনীর জেলাপ�রধানের দায়িত�ব পালন করেন (ম�ক�তিয�দ�ধের প�রেক�ষাপটে ব�যক�তির অবস�থান, পৃ-৪২৯)। ২ আগস�ট চট�টগ�রামের ম�সলিম হলে �ক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ভারতের সকল চক�রান�ত নস�যাৎ করে পাকিস�তান টিকিয়ে রাখার জন�য আমরা চেষ�টা চালিয়ে যাব।’ (ম�ক�তিয�দ�ধের চেতনা বিকাশ কেন�দ�র কর�তৃক প�রকাশিত �কাত�তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায় বইয়ের ১৩০ পৃষ�ঠা)
নির�বাহী কমিটির আরেক সদস�য মীর কাসেম আলী �কই সভায় বলেন, ‘গ�রামগঞ�জের প�রতিটি �লাকায় খ��জে খ��জে শত�র�র শেষ চিহ�ন ম�ছে ফেলতে হবে।’ কাসেম আলী ছিলেন আলবদর বাহিনীর �কজন কেন�দ�রীয় সংগঠক (�কাত�তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায়, পৃষ�ঠা-১৩০)।
সাবেক সাংসদ ও নির�বাহী কমিটির আরেক সদস�য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও স�বাধীনতাবিরোধী �কজন চিহ�নিত ব�যক�তি। ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে পিরোজপ�র মহক�মার (বর�তমানে জিয়ানগর উপজেলা) পারেরহাট বন�দরের মদন পালের দোকান ল�টের অভিযোগ আছে সাঈদীর বির�দ�ধে। স�থানীয় লোকজন ও কয়েকজন ম�ক�তিযোদ�ধা কমান�ডার � অভিযোগ �নেছেন।
’৭১-�র কেন�দ�রীয় নেতারা: পূর�ব পাকিস�তান জামায়াতের আমির গোলাম আযম, সাধারণ সম�পাদক আবদ�ল খালেক, নির�বাহী কমিটির দ�ই সদস�য (পরবর�তীতে ভারপ�রাপ�ত আমির) আব�বাস আলী খান ও আব�ল কালাম মোহাম�মদ ইউস�ফ (বর�তমান জ�যেষ�ঠ নায়েবে আমির), প�রচার সম�পাদক মাওলানা ন�র�জ�জামান, নায়েবে আমির (সহসভাপতি) আবদ�র রহীম প�রম�খের বির�দ�ধে পাকিস�তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতার প�রমাণ আছে।
১৯৭১ সালের �প�রিল মাসের শেষদিকে শান�তি কমিটি গঠনের লক�ষ�যে সে সময়কার প�রাদেশিক গভর�নর ন�র�ল আমিনের বাসায় বৈঠকে জামায়াতের পক�ষ থেকে গোলাম আযম প�রতিনিধিত�ব করেন। গোলাম আযম তা�র আত�মজীবনী জীবনে যা দেখলাম-�র তৃতীয় খন�ডে ১৫৬ পৃষ�ঠায় � তথ�য দিয়েছেন।
১৬ অক�টোবর বায়ত�ল মোকাররমের উত�তর গেটে জামায়াতের সমাবেশে গোলাম আযম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গোটা পাকিস�তানে স�বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন�য নিরলসভাবে শান�তি কমিটির মাধ�যমে কাজ করছে।’ (১৭ অক�টোবর দৈনিক সংগ�রাম)।
১৪ অক�টোবর দৈনিক সংগ�রাম-� �কটি বিবৃতিতে আবদ�ল খালেক বলেন, ‘রেজাকাররা সামরিক আইন কর�তৃপক�ষের সরাসরি নিয়ন�ত�রণাধীনে কাজ করছে।... তাদেরকে প�রশংসা না করে কিছ�সংখ�যক লোক তাদের বির�দ�ধে অভিযোগ উত�থাপন করেছেন।’
আব�বাস আলী খান ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে পাকিস�তান সেনাবাহিনীর পক�ষে গঠিত পূর�ব পাকিস�তান সরকারের শিক�ষামন�ত�রী ছিলেন। ২৫ জ�ন তৎকালীন পূর�বদেশ পত�রিকায় �কটি সংবাদে বলা হয়, ‘বগ�ড়া জেলার জয়প�রহাট মহক�মায় জনাব আব�বাস আলী খানের নেতৃত�বে পনের সদস�যবিশিষ�ট মহক�মা শান�তি কমিটি গঠিত হয়েছে।’ ১৪ আগস�ট পাকিস�তানের ‘আজাদী দিবসে’ জয়প�রহাটে রাজাকার ও প�লিশ বাহিনীর সম�মিলিত ক�চকাওয়াজে সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, ‘রাজাকাররা বিচ�ছিন�নতাবাদীদের সমূলে ধ�বংস করে দিতে জান কোরবান করতে বদ�ধপরিকর।’
মাওলানা আবদ�র রহিম ২৫ সেপ�টেম�বর হোটেল �ম�পায়ারে মালেক সরকারকে দেওয়া সংবর�ধনা শেষে পাকিস�তানের অখন�ডতা রক�ষায় মোনাজাত করেন (দৈনিক পাকিস�তান, ২৬ সেপ�টেম�বর)।
ম�ক�তিয�দ�ধ চলাকালে জামায়াতের প�রচার সম�পাদক মওলানা ন�র�জ�জামান ঢাকা জেলা রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন বলে ম�ক�তিয�দ�ধের প�রেক�ষাপটে ব�যক�তির অবস�থান বইয়ে উল�লেখ আছে (পৃ-৪২৭)।
[প�রথম আলো, ১৭ ডিসেম�বর, ২০০৭]

[আর�কাইভের বাংলা সেক�‌শনের মেইন পেজ-� ফিরে যেতে �খানে ক�লিক কর�ন]