বিজয় দিবস ২০০৭-�র বিশেষ রচনা
সৌজন�যেঃ

প�রতিশ�র�তির ৩৩ বছর পর আজও বাংলাদেশের কাছে ক�ষমা চায়নি পাকিস�তান
আরিফ�র রহমান ও জাহিদ হোসেন


ভারতের রাজধানী দিল�লিতে ১৯৭৪ সালের �প�রিল মাসে ত�রিপক�ষীয় �ক আলোচনায় পাকিস�তান �ই প�রতিশ�র�তি দিয়েছিল যে, ’৭১-�র বর�বরতার জন�য বাংলাদেশের কাছে আন�ষ�ঠানিকভাবে ক�ষমা চাইবে তারা। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস�তান−�ই তিন দেশের ওই আলোচনায় আরও সিদ�ধান�ত হয়, স�নির�দিষ�ট য�দ�ধাপরাধের অভিযোগে অভিয�ক�ত ১৯৫ জন পাকিস�তানি সেনাসদস�যকে ফিরিয়ে দিলে পাকিস�তান সরকার বাংলাদেশকে স�বীকৃতিও দেবে।
আলোচনার � সিদ�ধান�তের পরিপ�রেক�ষিতে য�দ�ধাপরাধী ওই ১৯৫ জন পাকিস�তানি সেনা কর�মকর�তার বিচার করেনি বাংলাদেশ। বরং পাকিস�তানে ফেরত পাঠিয়েছে। য�ক�তরাষ�ট�রের মহাফেজখানার বিভিন�ন দলিলপত�র ঘে�টে � তথ�য পাওয়া যায়।
দিল�লিতে ওই প�রতিশ�র�তির পর ৩৩ বছর কেটে গেলেও ’৭১-�র বর�বরতার জন�য পাকিস�তানের কোনো সরকার বাংলাদেশের কাছে ক�ষমা চায়নি। স�বীকৃতি দিয়েছে অনেকটা বাধ�য হয়ে।
২০০২ সালের ২৯ জ�লাই পাকিস�তানের প�রেসিডেন�ট জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশ সফরে �সে সাভার স�নৃতিসৌধের শোক বইয়ে লিখেছিলেন, ‘�কাত�তরের বাড়াবাড়ি দ�ঃখজনক।’ তখন বার�তা সংস�থা বাসস ও ইউ�নবির বরাত দিয়ে ৩০ জ�লাই প�রথম আলোয় ছাপা হয়েছিল যে, পারভেজ মোশাররফ লিখেছেন, ওই সময়কার ঘটনাপ�রবাহের যে বেদনা, তার অংশীদার পাকিস�তানিরা। শোক বইয়ে পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশের জনগণের প�রতি আহ�বান রাখেন, ‘বড় মনের পরিচয় দিয়ে আস�ন আমরা অতীতকে মাটিচাপা দিই। আস�ন �কত�রে সামনের দিকে �গোই।’ কিন�ত� কোথাও ক�ষমা চাওয়ার কথা নেই।
সাবেক রাষ�ট�রদ�ত ও বাংলাদেশ ইনস�টিটিউট অব ল অ�যান�ড ইন�টারন�যাশনাল অ�যাফেয়ার�সের (বিলিয়া) পরিচালক ওয়ালিউর রহমান � বিষয়ে প�রথম আলোকে বলেন, য�দ�ধাপরাধী হিসেবে ১৯৫ জন পাকিস�তানি সেনাকে চিহ�নিত করা হয়েছিল। �টা তৎকালীন পাকিস�তান সরকারও মেনে নেয়। ইচ�ছে করলে তাদের বিচার সেই সময়ে বাংলাদেশেই করা যেত। কিন�ত� তখনকার পরিস�িথতি বিচার-বিশ�লেষণ করে ও পাকিস�তান সরকারের অন�রোধের পরিপ�রেক�ষিতে ওই য�দ�ধাপরাধীদের পাকিস�তান সরকারের হাতে ত�লে দেওয়া হয় শর�ত সাপেক�ষে। বাংলাদেশের কাছে পাকিস�তান ক�ষমা চাইবে−�টি ছিল ম�খ�য বিষয়। পাশাপাশি ওই অপরাধীদের বিচার করবে। কিন�ত� কোনো প�রতিশ�র�তিই তারা রাখেনি। তিনি বলেন, �খনো ওই সব অপরাধীর বিচারের স�যোগ রয়েছে। তা হলে �টা প�রতিষ�ঠিত হবে যে, য�দ�ধাপরাধীদের বিচার সম�ভব।
আইন বিশেষজ�ঞ ড. শাহ�দীন মালিকও � বিষয়ে �কই মত দেন।
ম�ক�তিয�দ�ধবিষয়ক গবেষক মেজর (অব.) � �স �ম শামস�ল আরেফিন � বিষয়ে বলেন, পাকিস�তান রাষ�ট�র হিসেবে আজও বাংলাদেশের কাছে ক�ষমা চায়নি, যা অত�যন�ত দ�ঃখজনক। যদিও বিভিন�ন সময় পাকিস�তানের বিভিন�ন সামাজিক-সাংস�কৃতিক সংগঠক ’৭১-�র বর�বরতার জন�য ক�ষমা চেয়েছেন। �মনকি পাকিস�তানের ক�ষমা চাওয়া উচিত বলেও সরকারের প�রতি আহ�বান রেখেছেন। তিনি বলেন, � ঘটনার মধ�য দিয়ে প�রমাণিত হয়, � বিষয়ে পাকিস�তানের ভেতরেই জনমত আছে।
প�রসঙ�গত, ২০০২ সালের ২ আগস�ট পাকিস�তানের ৫১টি সংগঠন ’৭১-�র নৃশংসতার জন�য প�রকাশ�যে ক�ষমা চায়। �র মধ�যে উল�লেখযোগ�য হলো হিউম�যান রাইটস কমিশন অব পাকিস�তান, অ�যাকশন�ইড পাকিস�তান।
মার�কিন মহাফেজখানা থেকে প�রাপ�ত তথ�যে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের ১৭ �প�রিল বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের �ক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, য�দ�ধবন�দীদের বিষয়ে মানবিক দৃষ�টিভঙ�গিতে বিবেচনা করা হবে। পাকিস�তান বাংলাদেশকে স�বীকৃতি না দেওয়ায় য�দ�ধবন�দীদের বিষয়ে আলোচনায় সরকারি পর�যায়ে ভারত ও পাকিস�তানের সঙ�গে বাংলাদেশের অংশ নেওয়া সম�ভব ছিল না। � অবস�থায় মানবিক কারণে ওই সিদ�ধান�ত নেওয়া হয়। তবে যেসব পাকিস�তানি সেনোর বির�দ�ধে য�দ�ধাপরাধের (১৯৫ জন) অভিযোগ ছিল, তারা �র আওতায় ছিল না।
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের ৫ থেকে ৯ �প�রিল দিল�লিতে পাকিস�তানের প�রতিরক�ষা ও পররাষ�ট�র প�রতিমন�ত�রী আজিজ আহমেদ, ভারতের পররাষ�ট�রমন�ত�রী সর�দার শরণ সিং ও বাংলাদেশের পররাষ�ট�রমন�ত�রী ড. কামাল হোসেন আলোচনায় অংশ নেন। অন�যান�য বিষয়ের মধ�যে আলোচনায় ১৯৫ য�দ�ধবন�দীর বিষয়টি গ�র�ত�ব পায়।
আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ�ট�রমন�ত�রী ড. কামাল হোসেন বলেন, আন�তর�জাতিক আইন ও জাতিসংঘের ঘোষণা অন�যায়ী ওই ১৯৫ জন স�স�পষ�টভাবে য�দ�ধাপরাধ, গণহত�যা �বং মানবতার বির�দ�ধে অপরাধ করেছে। পাকিস�তানের প�রতিমন�ত�রী বলেন, যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তা�র সরকার � জন�য দ�ঃখিত �বং ঘটনাকে ঘৃণা করে।
� অবস�থায় তিন মন�ত�রী প�রো পরিস�িথতি উপমহাদেশের সমস�যা সমাধানের সদিচ�ছার আলোকে দেখে তার ভিত�তিতে সমাধানের ওপর গ�র�ত�ব আরোপ করেন। মন�ত�রিদের আলোচনায় �কমত পোষণ করা হয় যে, পাকিস�তান বাংলাদেশকে স�বীকৃতি দেওয়ার পর বাংলাদেশের প�রধানমন�ত�রীর আমন�ত�রণে পাকিস�তানের প�রধানমন�ত�রী বাংলাদেশ সফর করবেন। ওই সফরে পাকিস�তানের প�রধানমন�ত�রী অতীতে সংঘটিত ভ�ল ক�ষমা করে তা ভ�লে যাওয়ার জন�য বাংলাদেশের জনগণের কাছে আবেদন করবেন।
বাংলাদেশের জনগণের কাছে পাকিস�তানের প�রধানমন�ত�রীর ক�ষমা চাওয়ার প�রতিশ�র�তির পরিপ�রেক�ষিতে বাংলাদেশের পরারাষ�ট�রমন�ত�রী বলেন, বাংলাদেশ অভিয�ক�ত ১৯৫ পাকিস�তানি সেনার বিচারকাজ আর �গিয়ে নেওয়া হবে না বলে সিদ�ধান�ত নিয়েছে। সিদ�ধান�ত হয়, অন�যান�য য�দ�ধবন�দীর সঙ�গেই ওই ১৯৫ জনকেও ফেরত পাঠানো হবে, যা পরবর�তী সময়ে বাস�তবায়নও করা হয়।
বাস�তবতা হলো, আলোচনা ও �র সিদ�ধান�ত বাস�তবায়ন হয়নি।

[প�রথম আলো, ১৬ ডিসেম�বর, ২০০৭]

[আর�কাইভের বাংলা সেক�‌শনের মেইন পেজ-� ফিরে যেতে �খানে ক�লিক কর�ন]